Friday, 6 September 2024

গণেশ আর ইঁদুরের মজার গল্প (Funny story of Ganesha and the mouse)

 



গণেশ আর ইঁদুরের মজার গল্প

গণেশ, হিন্দুদের এক জনপ্রিয় দেবতা, তাঁর হাতির মতো মাথা আর বিশাল পেটের জন্য সবার প্রিয়। কিন্তু তাঁর সাথে যে ইঁদুরটি থাকে, তার গল্প জানলে হাসি থামাতে পারবেন না। আজকের গল্পে আমরা জানব কেমন করে এই ছোট্ট ইঁদুরটি গণেশের বাহন হয়ে উঠল আর সেই গল্পে লুকিয়ে আছে দারুণ মজা!


একদিন, স্বর্গে সব দেবতারা একসাথে মিলিত হলেন একটি বিশেষ কাজে। দেবরাজ ইন্দ্র মিটিং ডাকলেন, আর সব দেবতারা হাজির হলেন। সেখানে গণেশও ছিলেন, কিন্তু তাঁর পেটে তেমন খিদে ছিল না। তারপরেও তিনি একটু কিছু খেয়ে নিলেন, কারণ মিটিং-এর সময় মুখে কিছু না দিলে তাঁর মনমেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মিটিং শেষে, দেবতারা সবাই যখন নিজেদের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন গণেশও তাঁর বাহনটিকে খুঁজছিলেন। হ্যাঁ, গণেশ তখন একটি বড়-সড় ময়ূরকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করতেন।


কিন্তু হঠাৎ করে গণেশের সামনে হাজির হল এক ছোট্ট ইঁদুর। ছোট্ট এই প্রাণীটি দেখতে যেমন ছোট, তেমনই তার মেজাজও ছোট। ইঁদুরটি গণেশের সামনে এসে বলল, “গণেশ মশাই, আমি আপনার নতুন বাহন হতে চাই। আপনি কি আমাকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করবেন?”

গণেশ প্রথমে একটু অবাক হলেন। এতো ছোট্ট ইঁদুর আর বিশাল গণেশ! এটা কি সম্ভব? গণেশ হাসতে হাসতে বললেন, “তুমি তো খুব ছোট। তুমি কি সত্যি আমাকে বহন করতে পারবে?”


ইঁদুরটি কিন্তু খুবই জেদি ছিল। সে গণেশের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি আমাকে একটু চেষ্টা করার সুযোগ দিন। আমি আপনাকে নিয়ে যেতে পারব।” গণেশের মনের মধ্যে হাসির ঝড় বয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, “আচ্ছা, দেখি তো, এ ছোট্ট ইঁদুরটি কী করতে পারে।”

গণেশ ইঁদুরের ওপর বসলেন, আর দেখলেন, অদ্ভুতভাবে, ইঁদুরটি তাঁকে দারুণভাবে বহন করতে পারছে। গণেশ বিস্মিত হলেন। এই ছোট্ট ইঁদুরটি এতটা শক্তিশালী! ইঁদুরটি তাঁকে নিয়ে এমনভাবে চলতে লাগল, যেন সে গণেশের জন্যই তৈরি হয়েছিল।


এরপর থেকে গণেশ ইঁদুরকেই তাঁর বাহন হিসেবে গ্রহণ করলেন। তবে, একদিন এক মজার ঘটনা ঘটল। গণেশ এবং তাঁর ইঁদুরটি তখন এক গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে গণেশের পেটে খুব খিদে লাগল। গ্রামের এক বাড়িতে গণেশ গিয়ে খাওয়ার জন্য কিছু চাইলেন। বাড়ির লোকজন গণেশকে বসিয়ে খুব সেবা করলেন, দারুণ ভোজনের আয়োজন করলেন। গণেশ খাওয়া শুরু করলেন আর খেতে খেতে তাঁর পেট ক্রমশ ফুলতে লাগল।


অন্যদিকে, ইঁদুরটি বাইরে বসে বসে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ সে এক অদ্ভুত শব্দ শুনল। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে, একটা বিশাল সাপ তাকে আক্রমণ করতে আসছে! ইঁদুরটি ভীষণ ভয় পেয়ে দৌড়াতে শুরু করল। সে এত জোরে দৌড়াচ্ছিল যে গণেশও ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গেলেন। পেটের এত খাবার নিয়ে পড়তে গিয়ে গণেশ গড়াগড়ি খেতে লাগলেন।

সেই সময় দেবতারা সবকিছু দেখছিলেন আর তাঁদের হাসি আর থামছিল না। গণেশ নিজেও বুঝতে পারলেন, ইঁদুরের দৌড়ের সঙ্গে তাঁর ভারী শরীরের এই মজার মিল দেখলে যে কারও হাসি পাবে। গণেশও হাসতে লাগলেন। পরে ইঁদুরটিকে শান্ত করে আবার তাঁর বাহন হিসেবে নিয়ে নিলেন।


এরপর থেকে গণেশ এবং তাঁর ইঁদুরের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়ে গেল। গণেশ জানতেন, ইঁদুরটি যতই ছোট হোক, তার মধ্যে অসীম শক্তি আর সাহস আছে। আর ইঁদুরটিও জানত, গণেশ তাকে সবসময় রক্ষা করবে।

গল্পের শেষটা মজার হলেও এই গল্প থেকে আমরা শিখতে পারি, কারও বাহ্যিক আকার বা ক্ষমতা দেখে তাকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। ছোট্ট ইঁদুর যেমন গণেশকে বহন করতে সক্ষম হয়েছিল, তেমনই জীবনে অনেক ছোট জিনিসও বড় কিছু করতে পারে।

গণেশ আর ইঁদুরের এই হাস্যকর কিন্তু শিক্ষণীয় গল্প শিশুদের যেমন আনন্দ দেয়, তেমনই বড়রাও এর মধ্যে খুঁজে পান দারুণ এক জীবনের শিক্ষা।



No comments:

Post a Comment