Tuesday, 22 October 2024

10 টি ছোটদের শিক্ষামূলক ছোট গল্প | ----- 10 Educational Short Stories for Kids


 

10 টি ছোটদের শিক্ষামূলক ছোট গল্প | 


এই পোস্টে আমরা এরকমই কিছু সেরা ছোট শিক্ষনীয় মজার গল্প শেয়ার করলাম যা বাচ্চাদের খুব ভালো লাগবে এবং ওদের জন্যে শিক্ষণীয় হবে।


1) এক অসৎ বন্ধুর কাহিনি :


এক সময় এক গ্রামে দুই বন্ধু বাস করত। তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধুত্ব ছিল যেএকজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারত না। তাছাড়া তাঁরা পরস্পরকে অত্যন্ত বিশ্বাস করত। একদিন এক বন্ধু বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে কয়েক মাসের জন্য অন্য একটা শহরে রওনা দিয়েছিল। এ সময় সে তার বন্ধুটির দায়িত্বে লোহার সিন্দুকটি রেখে গেল ।



কয়েক মাস পরে শহর থেকে ফিরে এসে তার লোহার সিন্দুক টা সেই বন্ধুটির কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার জন্য সে তার বাড়ি গেল । কিন্তু বন্ধুটি তাকে বলল যে তার সিন্দুকটা উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে । বন্ধুটি তখন অন্য বন্ধুটিকে কিছু না বলে নিজের বাড়িতে ফিরে এল। সে তাকে একটা উচিত শিক্ষা দেবে বলে ঠিক করলএবং উপযুক্ত সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

একদিন তার বন্ধুর ছেলেকে এক জায়গায় একা একা খেলা করতে দেখে তাকে অপহরণ করল। অন্য বন্ধুটি পরিষ্কার বুঝতে পারল তার বন্ধুই তার ছেলেকে অপহরণ করেছে। সেইমতো তাকে বলল তার ছেলেকে ফেরত দিতে । বন্ধুটি তখন বলল তার ছেলেকে চিলে নিয়ে গেছে; তার কথা শুনে অবশেষে অসৎ বন্ধুটি নিজের ভুল বুঝতে পারল এবং উচিত শিক্ষা পেল। এরপর সে তার বন্ধুর লোহার সিন্দুকটি ফিরিয়ে দিয়ে তাঁর নিজের ছেলেকেও সে ফেরত পেল।

নীতিকথা: “মন্দকাজের জন্য ফলভোগ করতেই হবে ”


2)  ইঁদুর এবং একটি বিড়ালের গল্প:


একসময় একটা বাড়িতে কতগুলো ইঁদুর বাসা বেঁধেছিল। ইঁদুরগুলো বাড়ির মালিকের ক্ষতি করছিল নানারকমভাবে। বাড়ির মালিক অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে তাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটা বিড়াল নিয়ে এল।




বিড়ালটা প্রতিদিন অনেকগুলো করে ইঁদুর মারতে শুরু করল। তাতে ইঁদুরগুলো ভীষণ ভয় পেয়ে সর্বদাই তাদের গর্তের মধ্যে আটকে রইল । বাইরে বেরিয়ে আসতে তারা সাহস করল না। তারা কীভাবে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে সেটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটা সভা ডাকল। অনেকে অনেক রকম পরামর্শ দিল কিন্তু কোনোটাই উপযুক্ত বলে মনে হলো না ।

অবশেষে এক বৃদ্ধ ইঁদুর দাঁড়িয়ে বলল, “আমি একটা খুব ভালো উপায়ের কথা চিন্তা করেছি ।আমরা যদি বিড়ালটির গলায় ঘণ্টা বেঁধে দি তাহলে বিড়ালটা যে আসছে সেই ঘণ্টার শব্দ শুনেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে।" বৃদ্ধ ইঁদুরের যৌক্তিকতার সবাই খুব প্রশংসা করল,


কিন্তু অন্য একটা বৃদ্ধ ইঁদুর তাঁর আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "আমাদের বৃদ্ধ বন্ধুটি এইমাত্র যে উপায়ের কথা করলেন তা নিঃসন্দেহে খুবই ভালো কিন্তু সমস্যাটা হল; বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?” তাঁর কথা শুনে সকলেই চুপ করে রইল, কেউ একটি কথাও বলতে পারল না কারণ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার মতো কেউ সেখানে ছিল না।

নীতিকথা :"লা খুব সহজ কিন্তু করা কঠিন”।


3) সোনার স্পর্শ :

একটি খুব লোভী ধনী মানুষের একদিন একটি পরীর দেখা পেয়েছিল। পরীর চুলের গুচ্ছ গাছের শাখায় আটকে গেলে লোভী লোকটি পরীকে সাহায্য করার বদলে তার একটি ইচ্ছা পূরণ করতে বললেন।



তিনি বললেন ‘যা আমি স্পর্শ করব তা–ই যেন সোনাতে পরিণত হয়ে যায়, এবং তার এই ইচ্ছা পরী মেনে নেয়। লোভী লোকটি তার স্ত্রী ও মেয়েকে তার বরদান প্রাপ্তির খবর দেবার জন্য বাড়ির দিকে রওনা দিলেন এবং পথে সব পাথর ও নুড়ি স্পর্শ করে সোনায় রূপান্তরিত করতে করতে চললেন।

বাড়ি ফেরার পর তাঁর মেয়েটি তাঁকে অভিবাদন করার জন্য দৌড়ে এলে যেই তিনি মেয়েকে কোলে নিলেন, সে একটি সোনার মূর্তিতে পরিণত হল। তিনি তাঁর মূর্খতা বুঝতে পারলেন। এবং তার কৃতকর্মের জন্য আক্ষেপ করতে লাগলেন।

নীতিকথা :লোভ,পতনের মূল কারণ


4) বিপদ যখন দরজায় ধাক্কা দেয়:

এই গল্পটি আমাদের ব্যাখ্যা দেয় কিভাবে প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা আলাদাভাবে বিপত্তির মোকাবিলা করে। এক বাবা একটি ডিম, একটি আলু, এবং কিছু চা পাতা তিনটি পৃথক পাত্রের মধ্যে ফুটন্ত জলে রেখেছিলেন।



তিনি তার ছেলে কে দশ মিনিটের জন্য পাত্রগুলির উপর নজর রাখতে বলেছিলেন ও এই দশ মিনিট শেষে তিনি ছেলেকে আলুর খোসা ছাড়াতে, ডিমের খোসা ছাড়াতে এবং চা পাতাগুলো ছেঁকে নিতে বললেন। ছেলেটি অবাক হয়ে গেল!

তার বাবা ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে জিনিসগুলি প্রত্যেকটিই উষ্ণ জলের পাত্রের মধ্যে একই অবস্থায় রাখা হয়েছিল, কিন্তু তারা কিভাবে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করেছে সেটাই লক্ষণীয়।

আলু যখন নরম, ডিম তখন কঠিন আবার চা জলকেই পরিবর্তন করে দিয়েছে। প্রত্যেক মানুষই এই দ্রব্যগুলোর মত, ভিন্ন ভিন্ন । যখন বিপত্তি আসে, আমরা ঠিক আমাদের মতো করেই প্রতিক্রিয়া জানাই।

নীতিকথা: কঠিন পরিস্থিতিতে কিভাবে প্রতিক্রিয়া করব সেটা আমরাই বেছে নিতে পারি।


5) গর্বিত গোলাপ


গোলাপ নামে এক ছেলে ছিল, সে তার নিজের সুন্দর চেহারা নিয়ে গর্বিত ছিল আর তার বিরক্তির কারণ ছিল যে সে কুৎসিত ক্যাকটাসের গাছের পাশে বেড়ে উঠেছে। অহংকারী গোলাপ ছেলেটি প্রতিনিয়তই ক্যাকটাস গাছকে তার চেহারা নিয়ে অপমান করত, কিন্তু ক্যাকটাস চুপ করে থাকত।



এক গ্রীষ্মে, বাগানে উপস্থিত কুয়োটি শুকিয়ে গেলে জলের অভাবে গোলাপ গাছটি নিস্তেজ হতে শুরু করল। সে দেখল যে একটি চড়ুই পাখী ক্যাকটাসের মধ্যে ঠোঁট ডুবিয়ে জল পান করার চেষ্টা করছে।

লজ্জিত ও অসহায় গোলাপটি ক্যাকটাসকে জিজ্ঞেস করল, যদি সেও কিছু জল পেতে পারে। সহৃদয় ক্যাকটাস এক কথায় সম্মতি প্রদর্শন করল এবং তারা উভয়ই কঠিন গ্রীষ্ম বন্ধু হিসাবে পার করে দিল।

নীতিকথা :চেহারা দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়।


6) পেনসিলের গল্প:

ইংরেজি পরীক্ষায় খারাপ ফল হওয়ার কারণে ছোট ছেলেটির মন খারাপ ছিল । তার ঠাকুমা তাকে একটা পেন্সিল দিলেন এবং তারপর তিনি তাঁর নাতিকে ব্যাখ্যা করলেন এই বলে যে একটা পেন্সিল থেকে অনেক কিছু শিখতে পারা যায়, কারণ সেটি একটি ছাত্রের মতোই ।



এটিকে ধারালো করার সময় এটি যে যন্ত্রণা অনুভব করে! যেমনভাবে পরীক্ষায় ভাল না করায় তাঁর নাতিটি মনে ব্যথা পেয়েছে। তবে, পেনসিলটি তাকে একজন ভালো ছাত্র হতে সাহায্য করবে। ঠিক যেমন পেন্সিল থেকে যে ভালো জিনিস আসে তা এটির নিজের মধ্যে থেকেই আসে, তেমনি সে ও এই বাধা অতিক্রম করার শক্তি পাবে।

এবং অবশেষে, ঠিক যেমন এই পেন্সিলটি কোনো পৃষ্ঠায় তার চিহ্ন তৈরি করে, তেমনি মন থেকে চাইলে ছেলেটিও তার পছন্দ করা কোনো বিষয়ে তার চিহ্ন ছেড়ে যেতে সক্ষম হবে । ছোট ছেলেটি সঙ্গে সঙ্গেই সান্ত্বনা পেল এবং সে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করল যে আরও ভালো করবে।

নীতিকথা: ইচ্ছাশক্তি স্বার্থকতা আনে ।



7) লাঠির বান্ডিল:

তিন প্রতিবেশী তাদের ফসল নিয়ে সমস্যায় পড়েছিল কারণ মাঠে কীটপতঙ্গে ছেয়ে যাওয়ায় ফসল গুলি নিস্তেজ হয়ে পড়ছিল। প্রতিদিন তারা তাদের ফসল বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করতে লাগল।



প্রথম জন একটি কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করল, দ্বিতীয় জন কীটনাশক ছড়াল, এবং তৃতীয় জন তার ক্ষেতের চারদিকে একটি বেড়া লাগাল, কিন্তু এসবে কিছু লাভ না।

একদিন গ্রামের প্রধান এসে তিনজন কৃষককে ডেকে তাদের প্রত্যেককে একটি করে লাঠি দিলেন এবং লাঠিগুলি ভাঙতে বললেন। কৃষকরা সহজেই সেগুলি ভেঙে দিল কিন্তু যখন তিনি তাদের তিনটি লাঠির একটি বান্ডিল দিয়ে সেটিকে ভাঙতে বললেন কৃষকরা খুব পরিশ্রম করেও তা ভাঙতে পারল না ।

গ্রামের প্রধান বুঝিয়ে দিলেন যে একা একা কাজ করার চেয়ে একসাথে কর্ম করা বেশী সহজ, শক্তিশালী এবং লাভজনক । কৃষকরা তাদের সম্পদ একত্রিত করল এবং তাদের ক্ষেত কীটপতঙ্গ থেকে মুক্তি পেল।

নীতিকথা: ঐক্য ই বল।

8) পিপীলিকা এবং ফড়িং:

একটি পিঁপড়ে এবং একটি ফড়িং খুব ভালো বন্ধু ছিল। ফড়িং সারাদিন আরামে কাটাতো এবং গিটার বাজাতো কিছু পিঁপড়েটি, সারাটা দিন কঠোর পরিশ্রম করে বাগানের সব কোণ থেকে খাবার সংগ্রহ করত।



ফড়িংটি প্রতিদিনই পিঁপড়েকে বিরতি নিতে বলত কিন্তু পিঁপড়ে নিজের কাজ চালিয়ে যেত। শীঘ্রই, শীত এল। রাতে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার ফলে খুব কম প্রাণী বাইরে বের হত। ফড়িংটি খাদ্যাভাবে সব সময় কষ্টে দিন যাপন করত ।

কিন্তু, পিঁপড়েটির কাছে সারা শীত নিরুদ্বেগে কাটানোর মতো যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য সঞ্চয় করা ছিল তাই সে হাসিখুশিভাবে শীতকাল অতিবাহিত করতে পেরেছিল।

নীতিকথা: সময় ভালো থাকা অবস্থায় কাজকর্ম গুছিয়ে নেওয়া উচিত।



9) ভাল্লুক এবং দুই বন্ধু:

দুই সেরা বন্ধু একটি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একটি নির্জন এবং বিপজ্জনক পথ দিয়ে হাঁটছিল। সূর্য় অস্ত যেতে শুরু করলে, তারা ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু একে অপরকে ধরে থাকল।



হঠাৎ, তারা তাদের পথে একটি ভাল্লুক দেখল। ছেলেদুটির একজন নিকটতম গাছের দিকে দৌড়ে গেল এবং এক মুহুর্তের মধ্যে গাছে উঠে পড়ল। অন্য ছেলেটি জানত না যে কিভাবে গাছে উঠতে হয়, তাই সে মাটিতে শুয়ে পড়ে মারা যাওয়ার ভান করল।

ভাল্লুকটি মাটিতে ছেলেটির কাছে এসে তার মাথার চারপাশে শুঁকল। ছেলেটি মারা গেছে ভেবে, ভাল্লুক তার পথে চলে গেল। গাছের ছেলেটি গাছ থেকে নেমে বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করল যে, ভাল্লুকটি তার কানে চুপিচুপি কী বলল।

ছেলেটি উত্তর দিল, ‘তোমার খেয়াল রাখে না এমন বন্ধুদের বিশ্বাস করো না।'

নীতিকথা: প্রয়োজনের সময় যে বন্ধু পাশে থাকে সে–ই প্রকৃত বন্ধু।


10) সিংহ ও ইঁদুর :

একদিন এক সিংহ তার গুহায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় একটি ছোট ইঁদুর ছোটাছুটি করতে করতে সিংহের নাকের এক ছিদ্রে ঢুকে পড়েছিল।



সিংহের ঘুম ভেঙে যাওয়ার ফলে সে রেগে গিয়ে ইঁদুরটিকে থাবা দিয়ে মেরে ফেলতে চেষ্টা করেছিল কিন্তু ইঁদুরটি অত্যন্ত বিনয়ী সুরে সিংহের কাছে প্রার্থনা করেছিল তাকে না মেরে ফেলার। ইঁদুরটি এও বলেছিল যে সময় হলে সেও সিংহের উপকারে আসতে পারে।

ইঁদুরের মতো এত ছোট জীব, সিংহের মতো এত বিশাল জন্তুকে কীভাবে রক্ষা করবে সে কথা ভেবে সিংহের হাসি পেল আর দয়াপরবশ হয়ে সিংহ ইঁদুরটিকে ছেড়ে দিল। এর কিছুদিন পরে সেই সিংহটি একদিন একটি দড়ির শক্ত ফাঁদে আটকে পড়ল ।


ফাঁদে পড়ে যাওয়া সিংহটির গর্জন শুনে ছোট্ট ইঁদুরটি ছুটে চলে এসে সিংহর দুরবস্থার সম্মুখীন হল। ছোট্ট ইঁদুরটি তার ধারালো দাঁত দিয়ে ফাঁদের দড়িটি কাটতে শুরু করল এবং এভাবে অবশেষে সে সিংহকে ফাঁদ থেকে মুক্তি দিল।

মুক্তি পেয়ে সিংহটি ইঁদুরকে অনেক ধন্যবাদ জানাল আর সেই সঙ্গে বলল যে ,”তোকে আমি অবজ্ঞা করেছিলাম একসময়। কিন্তু আজ বুঝলাম, কাউকে ছোট করতে নেই ।”

নীতিকথা: ছোট বলে কাউকে অবজ্ঞা করতে নেই। উপকারে সবাই লাগতে পারে।



উপসংহার:


নীতিমূলক এই গল্পগুলি ছোটদের একটি গুণমানযুক্ত সময় কাটানোর সহায়ক। ভালোভাবে সময় কাটানো ও বিনোদনের সাথে সাথে নীতি সমৃদ্ধ এই ছোট গল্পগুলি তাদের মানসিক বিকাশ ও সুশিক্ষা ও প্রদান করবে।



Sunday, 20 October 2024

ছোটদের ৫ টি নীতিমূলক গল্প – Top 5 Moral Stories for Kids in Bengali


ছোটদের ৫ টি নীতিমূলক গল্প – Top 5 Moral Stories for Kids in Bengali


আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি মানুষকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেলেও তাকে যান্ত্রিক করে তুলেছে আর তার ভুক্তভোগী আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শিশুরা। কথায় আছে কাউকে কিছু উপদেশ দিয়ে শেখানোর থেকে উদাহরণ দিয়ে শেখানো সহজতর। আর এই ক্ষেত্রে ছোটদের জন্য রচিত নীতিমূলক গল্পের ভূমিকা অগ্রগণ্য।

গল্প পড়া ও গল্প শোনার মধ্য দিয়ে ছোটরা বিনোদনের সাথে সাথে নৈতিক মূল্যবোধগুলো হৃদয়ঙ্গম করে নেয়। তাই শিশু মনে প্রয়োজনীয় মূল্যবোধ জাগানোর সবথেকে সহজ উপায় এই গল্পের মাধ্যম; যা ভবিষ্যতে তাদের দৃঢ ব্যক্তিত্ব, সৎ এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

নীতিকথা কাকে বলে?

মানব সমাজে বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক নীতিগুলির মাধ্যমে যে লোক কাহিনি বর্ণিত করা হয় তাকেই বলা হয় নীতি কথা।

৫ টি ছোটদের শিক্ষামূলক ছোট গল্প | 5 Bengali Moral Stories. 


এই পোস্টে আমরা এরকমই কিছু সেরা ছোট শিক্ষনীয় মজার গল্প শেয়ার করলাম যা বাচ্চাদের খুব ভালো লাগবে এবং ওদের জন্যে শিক্ষণীয় হবে।

১) লোভী কুকুর :


একদিন একটি লোভী কুকুর একটি কসাই – এর দোকান থেকে এক টুকরো মাংস চুরি করল। তা দেখে কসাই তাঁর পিছনে তাড়া করল কিন্তু কিছুদূর পর্যন্ত গিয়ে সে তার নিজের দোকানে ফিরে এল। এদিকে কুকুরটা ভীষণ ভয়ে ছুটতে লাগল প্রাণপণে।



অনেকটা যাওয়ার পর সে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল যে কসাইটা তার দিকে তাড়া করে আসছে কিনা। কাউকে আসতে না দেখে সে তার গতি কমিয়ে ধীরে সুস্থে হাঁটতে লাগল।কিছুক্ষণ পরে সে এসে পৌঁছল একটা ছোট্ট নদীর কাছে।

সে তখন মুখের মাংসের টুকরোটা নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে নদী পার হতে লাগল ।সেসময় নদীর পরিষ্কার জলে তার প্রতিবিম্ব ভেসে উঠতে সে সেদিকে তাকিয়ে দেখল। লোভী আর বোকা কুকুরটা নিজের প্রতিবিম্বকে মাংস মুখে অন্য একটি কুকুর মনে করল।সেই মাংসের টুকরোটাও পাওয়ার জন্য তার খুব লোভ হলো।

সে এবার অন্য কিছু চিন্তা ভাবনা না করে নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল আর সঙ্গে সঙ্গে জলের স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।লোভী কুকুরটা মাংসের টুকরোটার সাথে সাথে তার মূল্যবান প্রাণ টা ও হারাল।

নীতিকথা :"অতিরিক্ত লোভ মানুষের সর্বনাশের কারণ”



২) বুদ্ধিমান কাক :

একটা কাক উড়তে উড়তে এমন একটা স্থানে এসে পৌঁছালো যেখানে জল পাওয়া খুবই দুষ্কর।অথচ পিপাসায় তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর কাক একটা কলসি পেল।



কিন্তু কলসির কাছে গিয়ে সে হতাশ হলো শুধু ঠোঁট বাড়িয়ে চেষ্টা করল অনেকবার জল পান করার।কিন্তু জলের নাগাল না পেয়ে কাকটি চিন্তা করতে লাগল কী করা যায়! কলসির আশেপাশে কিছু নুড়িপাথর পড়েছিল ;সেগুলো দেখতে দেখতে হঠাৎ কাকের মাথায় একটি বুদ্ধি এল।

একটি একটি করে নুড়িপাথর নিয়ে কলসির মধ্যে ফেলতে লাগল সে ।পাথর জায়গা দখল করায় জল উঠে এল কলসির মুখের কাছে। তৃষ্ণার্ত কাকের প্রাণ খুশিতে ভরে উঠল।ঠোঁট ডুবিয়ে ডুবিয়ে প্রাণ ভরে জল পান করে সে তার তৃষ্ণা মেটাল।

নীতিকথা : “বুদ্ধি থাকলে উপায় হয়”।



৩) শিয়াল ও আঙুর ফল:

তিন দিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হওয়ার কারণে একটি শিয়াল খাবারের খোঁজে কোথাও বেরোতে পারেনি। খিদের জ্বালায় থাকতে না পেরে শিয়ালটি বনের মধ্যে খাবারের সন্ধানে ঘুরতে লাগল ।



হঠাৎ একটি ঝোপের দিকে তার নজর পড়ল।সে দেখল ঝোপের পাশে একটি আঙুরগাছ এবং অনেক পাকা আঙুরের থোকা ঝুলছে সেখানে। খিদের জ্বালায় সেই আঙুর খেয়েই পেট ভরাবে বলে শেয়ালটি মনস্থির করল।

কিন্তু গাছের এত উপরে থাকা আঙুরের থোকা গুলির সে কীভাবে নাগাল পাবে সেই নিয়ে ভাবতে শুরু করল । কিন্তু শিয়ালটি তার কোনও উপায়ই বার করতে পারল না। অবশেষে বিফল মনোরথ হয়ে সে সেই স্থান পরিত্যাগ করল ।

ফেরার পথে সে বলতে লাগল - “আঙুর ফল টক; ওই আঙুর আমি খেতেও পারতাম না 
র খেলেও আমার পেট ভরত না”।

নীতিকথা :  নিজের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য পরনিন্দা করা অনুচিত।


৪) রাখাল ছেলে আর নেকড়ে :

এক গ্রামে একটি রাখাল ছেলে বাস করত। তার বাবা তাকে ভেড়াদের যত্ন নিতে আদেশ দিয়েছিল। প্রতিদিন ছেলেটিকে ঘাসের মাঠে ভেড়া দের ছড়াতে নিয়ে যেতে হতো।রাখাল ছেলেটির এই কাজ একদম পছন্দ ছিল না কারণ সে দৌড়তে আর খেলতে চাইত। তাই একদিন সে গ্রামের লোকের সাথে মজা করার সিদ্ধান্ত নিল।





হঠাৎ সে চিৎকার করে বলল “নেকড়ে ,নেকড়ে!” রাখাল ছেলেটির চিৎকার শুনে পুরো গ্রামের লোক নেকড়েকে তাড়ানোর জন্য পাথর, শাবল, লাঠি যে যা পারল নিয়ে এল। কিন্তু বনে এসে গ্রামবাসীরা যখন দেখল যে কোনও নেকড়ে নেই ,রাখাল বালকটি তাদের সময় নষ্ট করেছে এবং তাদের ভয় দেখাবার জন্যই মিথ্যা কথা বলছে তখন তারা বিরক্ত বোধ করল এবং যে যার বাড়িতে ফিরে গেল

পরের দিন ছেলেটি আবার চিৎকার করে বলল ,”নেকড়ে নেকড়ে”! আর গ্রামবাসীরা আবারও নেকড়ে তাড়াতে রাখাল ছেলেটির কাছে দৌড়ে এল ।ছেলেটি তাদের ভয় দেখে যখন হেসে উঠল গ্রামবাসীরা চলে গেল এবং কেউ কেউ খুব রাগান্বিত হল রাখাল ছেলেটির কীর্তিকলাপ দেখে।

তৃতীয় দিন ছেলেটি ভেড়া চড়াবার জন্য ছোট্ট একটি পাহাড়ে উঠেছিল আর হঠাৎ সে দেখল সত্যিকারের একটা নেকড়ে বাঘ তার ভেড়াদের ওপর আক্রমণ করেছে। সে প্রাণপণ চিৎকার করে বলল “নেকড়ে ,নেকড়ে!!”

কিন্তু গ্রামবাসীরা ভাবল রাখাল ছেলেটি বুঝি তাদের আবার বোকা বানানোর চেষ্টা করছে তাই এবার কেউ ছেলেটিকে উদ্ধার করতে এল না। মিথ্যে বলার কারণে রাখাল ছেলেটি তার তিনটি ভেড়াকে হারাল।

নীতিকথা : “মিথ্যে গল্প বানানো কখনো উচিত না কারণ আসল প্রয়োজনে কেউ সাহায্যের হাত বাড়াবে না”।


৫) বুদ্ধি খাটিয়ে গণনা :


একবার আকবর তার আদালতে একটি প্রশ্ন রেখেছিলেন যা সবাই কে অবাক করেছিল । রাজসভার সবাই যখন উত্তর বের করার চেষ্টা করছিল তখন বীরবল এগিয়ে গিয়ে জানতে চিইলেন কি ব্যাপার। আর তাই তারা বিরবলকে প্রশ্নটি করে জানতে চাইল



“শহরে কতগুলো কাক আছে?’

বীরবল সাথে সাথেই হাস্য বদনে আকবরের কাছে গিয়ে ঘোষণা করলেন যে তাঁর প্রশ্নের উত্তর হল, একুশ হাজার পাঁচশো তেইশটি কাক গোটা শহরে উপস্থিত। যখন সম্রাট জানতে চাইলেন যে বীরবল কিভাবে উত্তরটি দিতে পারলেন, তখন বীরবল উত্তরে বলেছিলেন , ‘ মহারাজ ,আপনার লোকেদের কাকেদের সংখ্যা গণনা করতে বলুন।

যদি আরো কাক থাকে, তাহলে শহরের বাইরে থেকে কাকেদের আত্মীয়রা তাদের দেখা করতে এসেছে অর যদি কম থাকে, তাহলে কাকেরা শহরের বাইরে তাদের আত্মীয়–স্বজনের সাথে দেখা করতে গেছে। ‘ উত্তর পেয়ে খুশী হয়ে, আকবর বীরবলকে পুরস্কৃত করেছিলেন ।

নীতিকথা: “প্রত্যেক উত্তরের ইএকটি সঠিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন”।



উপসংহার:

নীতিমূলক এই গল্পগুলি ছোটদের একটি গুণমানযুক্ত সময় কাটানোর সহায়ক। ভালোভাবে সময় কাটানো ও বিনোদনের সাথে সাথে নীতি সমৃদ্ধ এই ছোট গল্পগুলি তাদের মানসিক বিকাশ ও সুশিক্ষা ও প্রদান করবে।


Thursday, 10 October 2024

সাহসী ছেলের গল্প : (The story of the brave Boy)

 


সাহসী ছেলের গল্প

নাম ছিল অর্ণব। ছোট্ট একটি গ্রামে তার জন্ম। গ্রামের নাম ছিল বেলুনিয়া। দূরে, শহরের দিকে তাকিয়ে সে প্রতিদিন স্বপ্ন দেখত। বাবা-মা কৃষক, নিজেদের জমিতে ফসল ফলানোই তাদের একমাত্র জীবিকা। অর্ণব ছোটবেলা থেকেই অনেক বড় স্বপ্ন দেখত। অন্য সবার থেকে কিছুটা আলাদা ছিল তার মনোভাব। পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল সে। স্কুলে শিক্ষকরা সব সময় তার প্রশংসা করতেন।

একদিন স্কুলের শিক্ষক বললেন, "তোমার মতো মেধাবী ছেলে এত ছোট জায়গায় থেকে অনেক দূর যেতে পারবে না। শহরে যাও, সেখানে আরও ভালো পড়াশোনা করতে পারবে।" সেই সময় থেকেই অর্ণবের মাথায় শহরের চিন্তা আসে। তবে বাবা-মা এত সহজে ছেলেকে ছেড়ে দিতে চায়নি। গ্রামের সাথে তাদের এক অদ্ভুত সম্পর্ক ছিল।




শেষমেশ অনেক বুঝিয়ে অর্ণবের বাবা-মা তাকে শহরে পাঠানোর জন্য রাজি হন। একটি বড় শহরে নামি স্কুলে ভর্তি হল সে। শহরের জগতটা একদম আলাদা। ব্যস্ত রাস্তা, লোকজনের ভিড়, আর আধুনিকতার ছোঁয়া। অর্ণব প্রথম দিকে খুবই অসুবিধার মধ্যে পড়ল, গ্রামের মাটির গন্ধ, পাখির ডাক, আর সেই সবুজ মাঠ যেন কোথায় হারিয়ে গেল। শহরের কোলাহল, দৌড়ঝাঁপে নিজেকে হারিয়ে ফেলার মতো লাগছিল।

কিন্তু অর্ণবের ভেতরে ছিল এক অসম্ভব জেদ। সে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য সমস্ত শক্তি দিয়ে পড়াশোনায় মন দিল। শিক্ষকরা তার মেধা দেখে মুগ্ধ। শহরের সবাই তাকে চেনে, একদিন তার নাম হবে, এমনই স্বপ্ন দেখত সে।




অর্ণবের স্কুল শেষ হল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হল সে। সময়ের সাথে সাথে অর্ণবের সাথে তার গ্রামের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকল। প্রথমে সে প্রতি মাসে একবার বাড়ি আসত, পরে তা দুই মাসে, তিন মাসে পরিণত হল। মা ফোনে তাকে বলত, "কবে আসবি রে? তোকে না দেখে থাকতে পারি না।" কিন্তু অর্ণব প্রতিবারই কোনো না কোনো কাজের অজুহাত দেখিয়ে বলত, "এই তো মা, খুব শীঘ্রই আসব।"

মনে মনে অর্ণব বুঝতে পারছিল, শহরের চাকচিক্য আর তার নিজের উচ্চাশা তাকে গ্রামের মাটির থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে।



বিশ্ববিদ্যালয়ের পর চাকরিতে ঢুকল অর্ণব। নামকরা একটি কোম্পানিতে উচ্চপদে কাজ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত জীবন। নিজের জায়গা করে নিতে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছিল তাকে। মা ফোনে বলত, "খুব পরিশ্রম করছিস রে, শরীর খারাপ করিস না।" অর্ণবও মায়ের চিন্তা দূর করতে বলত, "না মা, সব ঠিক আছে।"

কিন্তু এই ঠিক থাকা মানে ছিল ভেতরে ভেতরে অর্ণবের জীবন থেকে মায়ের জন্য সময় ক্রমেই কমে যাওয়া। বন্ধুরা মাঝে মাঝে মজা করে বলত, "তুই গ্রামের ছেলে, এত বড় শহরের মানুষ হয়ে গেলি কী করে?" অর্ণব হাসত, কিন্তু মনে মনে একটা অপরাধবোধও জন্ম নিত।



বছরের পর বছর কেটে গেল। অর্ণব এখন অনেক বড় হয়েছে, অনেক অর্থ, সম্মান, সবকিছু পেয়েছে সে। কিন্তু মাঝে মাঝে রাতে একা বসে, গ্রাম আর মায়ের কথা মনে পড়ে তার। সেই ছোট্ট কুঁড়েঘর, মাটির রাস্তা, নদীর পাড়ে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়।

মাঝে মাঝে মা ফোন করে খুবই চিন্তিত স্বরে বলত, "তোর বাবার শরীর খুব খারাপ। একটু আসবি কি?" অর্ণবের কাজের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে সে বারবার সময় বের করতে পারত না। এইভাবে দিনের পর দিন চলতে লাগল।

একদিন হঠাৎ ফোন এল, বাবার শরীর আরও খারাপ। এবার আর দেরি করার সুযোগ ছিল না। অর্ণব তাড়াতাড়ি গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। গাড়িতে বসে পুরো রাস্তা জুড়ে শুধু ভাবছিল, এতদিন পর বাড়ি যাচ্ছে সে। বাবা-মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভাসছিল।



বাড়ি পৌঁছানোর পর মা-বাবার মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখল অর্ণব। এতদিন পর ছেলেকে পেয়ে তারা যেন নতুন জীবন ফিরে পেল। বাবার শরীর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে, তবে এখনও দুর্বল। মা সারাদিন ছেলের যত্ন করতে ব্যস্ত, যেন সবকিছু নতুন করে ফিরে পেয়েছেন।

অর্ণব এই কয়েকটা দিন গ্রামের মাটিতে কাটিয়ে বুঝতে পারল, এতদিনের শহরের জীবন আর উচ্চাশা তাকে যা দিতে পারেনি, সেই শান্তি সে এই ছোট্ট গ্রামেই পেয়েছে।

কিন্তু আবারও শহরে ফিরে যেতে হবে। তার কাজের জন্য, তার ভবিষ্যতের জন্য। বিদায়ের সময় মা আবারও কাঁদতে কাঁদতে বলল, "ফিরে আসিস রে, আর দেরি করিস না।" অর্ণব প্রতিবারের মতোই বলল, "এই তো মা, খুব তাড়াতাড়ি আসব।"



শহরে ফিরে আসার পর অর্ণবের জীবনে আবারও ব্যস্ততা শুরু হল। মায়ের সেই কথা, বাবার দুর্বল চেহারা, সবকিছুই মাঝে মাঝে মনে পড়ত, কিন্তু কাজের চাপে সে সব ভুলে যেত।

কিন্তু একদিন ফোন এল। মা ফোনে খুবই ভাঙা স্বরে বলল, "তোর বাবা আর নেই রে..." অর্ণব সব কাজ ফেলে ছুটে গেল বাড়ির দিকে। এইবার আর কোনো দেরি করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ততদিনে অনেক কিছুই বদলে গেছে।

বাবার মৃত্যু আর মায়ের একাকীত্ব তাকে চিরকালীন এক উপলব্ধির মধ্যে ফেলে দিল। এতদিনের শহরের জীবনের প্রতি তার যে আকর্ষণ ছিল, তা যেন মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে গেল।

অর্ণব বুঝতে পারল, জীবনের সবকিছু পাওয়ার চেষ্টায় আমরা কখনও কখনও যা সবচেয়ে মূল্যবান, তা হারিয়ে ফেলি।



সব শেষে: "দূরান্ত ছেলের গল্প" শুধুমাত্র একটি ছেলের গল্প নয়, এটি আমাদের সকলের জীবনের গল্প। আমরা সকলেই জীবনে উন্নতির জন্য দূরত্ব তৈরি করি, কিন্তু সেই দূরত্বই আমাদের কাছের মানুষদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।


Saturday, 5 October 2024

হিংস্র বাঘ আর চালাক শেয়ালের গল্প: গল্প নং- 2 (The story of the ferocious Tiger and the clever Fox: Story No. 2)

 



হিংস্র বাঘ আর চালাক শেয়ালের গল্প (গল্প নং- 2)


একটি সময়ের কথা, এক গভীর জঙ্গলে বসবাস করত এক হিংস্র বাঘ। সেই বাঘ ছিল অদম্য শক্তিশালী এবং জঙ্গলের অন্যান্য প্রাণীদের জন্য বিপদের কারণ। সে তার বিশাল শরীর এবং শক্তিশালী থাবার জোরে সহজেই শিকার ধরতে পারত। সবাই তাকে ভয় করত এবং তার সামনাসামনি আসতে সাহস করত না। কিন্তু, জঙ্গলের এক কোনায় এক চালাক শেয়ালও বাস করত, যার বুদ্ধিমত্তা এবং ধূর্ততার জন্য সে সকল প্রাণীদের মধ্যে পরিচিত ছিল।


একদিন, বাঘটি শিকার না পেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ঘুরছিল। সে শেয়ালটিকে দেখতে পেল এবং তাকে ধরে ফেলার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। কিন্তু শেয়ালটি দ্রুততার সঙ্গে তার জীবন বাঁচানোর উপায় খুঁজতে লাগল। সে বাঘের সামনে গিয়ে বলল, "ওহ মহাশয়! তুমি কী করে আমার মতো একজন বুদ্ধিমান প্রাণীকে খেতে চাও? আমি জানি, তুমি জঙ্গলের রাজা, কিন্তু তুমি জানো না, আমাকে খেলে তোমার বড় ক্ষতি হতে পারে।"


বাঘটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "ক্ষতি? কিভাবে?" শেয়ালটি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে বলল, "আমার শরীরে এক ভয়ঙ্কর রোগ লুকিয়ে আছে। যদি তুমি আমাকে খাও, তাহলে তুমিও সেই রোগে আক্রান্ত হবে এবং মারা যাবে।"

বাঘটি কিছুটা দ্বিধায় পড়ে গেল। সে কিছুক্ষণ ভেবে বলল, "তুমি কি সত্যিই এমন কিছু জানো যা আমার ক্ষতি করতে পারে?" শেয়ালটি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল, "হ্যাঁ, মহাশয়। এই রোগে আমি ধীরে ধীরে মারা যাব। তাই, আমি তো তোমার ভালো চাই। আমি চাই না তুমি মারা যাও। তুমি জঙ্গলের রাজা, তোমার যত্ন নেওয়া উচিত।"

বাঘটি আরও অবাক হয়ে গেল এবং ভাবতে লাগল। সে শেয়ালের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল এবং শেষে শেয়ালকে ছেড়ে দিল। শেয়ালটি নিজের বুদ্ধির জোরে বাঘের হাত থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হল।

এই গল্পটি থেকে আমরা শিখতে পারি যে, শুধুমাত্র শক্তি বা ক্ষমতা সব সময় জয় এনে দেয় না। বুদ্ধি ও ধূর্ততা প্রায়ই বিপদ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে এবং জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।


See More

Thursday, 3 October 2024

চালাক শেয়াল আর বোকা ছাগলের গল্প (The story of the clever Fox and the foolish Goat)


 

চালাক শেয়াল আর বোকা ছাগলের গল্প

এক ছিল চালাক শেয়াল, যাকে সবাই তার বুদ্ধিমত্তার জন্য চিনত। গ্রামের অন্য পশু-পাখিরা সব সময় তার প্রতারিত হওয়ার ভয়ে থাকত। শেয়ালটি সুযোগ পেলেই নিজের বুদ্ধি দিয়ে অন্যদের ঠকাতো এবং নিজে লাভবান হতো। তবে একদিন সে নিজেই নিজের চালাকি ও বুদ্ধির ফাঁদে আটকা পড়ে।

গল্পের শুরু হয় এক বনের মধ্যে। শেয়ালটি সব সময় অন্য প্রাণীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের খাবার ছিনিয়ে নিতো। সে এত বুদ্ধিমান ছিল যে, বনের অন্যান্য প্রাণী তার থেকে সাবধান থাকত। একদিন সে একটি কুয়োর কাছে আসে এবং দেখে যে, কুয়োর তলায় অনেক পানি রয়েছে।


শেয়ালের কৌশল

কুয়ো থেকে পানি খেতে শেয়ালটি কৌশলে কুয়োর ভেতরে নেমে যায়। কিন্তু পানি খেয়ে তার মনে হলো যে, উপরে উঠার উপায় নেই। এবার শেয়ালটি নতুন একটি চালাকি খুঁজে বের করলো। সে একটি ছাগলকে দেখে বলল, "এই কুয়োর পানি খুবই মিষ্টি। তুমি চাইলে নেমে এসে পানি খেতে পারো।"


ছাগলটি শেয়ালের কথায় বিশ্বাস করে কুয়োর ভিতরে নেমে গেলো। কিন্তু পানি খেয়ে যখন সে উপরে উঠার চেষ্টা করলো, তখন সে বুঝতে পারলো যে, উপরে ওঠার কোনো উপায় নেই। শেয়ালটি তখন বলল, "তুমি আমাকে তোমার শিংয়ে তুলে দাও, আমি উপরে উঠে পরে তোমাকে টেনে তুলবো।" ছাগলটি তার শিং দিয়ে শেয়ালকে তুলে দেয়। শেয়ালটি উপরে উঠে ছাগলকে ফেলে রেখে চলে যায়।


নৈতিক শিক্ষা

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, বুদ্ধি ও চতুরতার সঙ্গে কাজ করা উচিত, কিন্তু কখনওই অন্যদের ঠকিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করা উচিত নয়। কারণ শেষ পর্যন্ত, মিথ্যা ও প্রতারণা নিজের জন্যই ক্ষতি ডেকে আনে।

চালাক শেয়ালের গল্প ছোটদের জন্য অত্যন্ত শিক্ষামূলক। এটি আমাদের সততা, অন্যদের প্রতি সম্মান এবং সদগুণের মূল্যবোধ শেখায়। চালাকির মাধ্যমে সাময়িক সাফল্য পাওয়া গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্ষতিকর হতে পারে।


Read More

হিংস্র বাঘ আর চালাক শেয়ালের গল্প (The story of the ferocious Tiger and the clever Fox)

 


হিংস্র বাঘ আর চালাক শেয়ালের গল্প  (The story of the ferocious Tiger and the clever Fox)


একসময়, এক গভীর অরণ্যে একটি হিংস্র বাঘ এবং একটি চালাক শেয়াল বাস করত। বাঘটি ছিল জঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী। তার ভয়ংকর গর্জন এবং প্রভাবশালীর জন্য অন্ন সব প্রাণী তাকে ভয় পেতো।  বাঘটির মধ্যে অহংকারও ছিল প্রচুর, সে সবসময় মনে করত যে, তার চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই।



একদিন, বাঘটি শিকারের জন্য অরণ্যে বের হয় এবং একটি শেয়ালকে দেখতে পায়। বাঘটি শেয়ালকে ধরার জন্য তাড়িয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু শেয়াল ছিল অত্যন্ত চালাক। শেয়াল বুঝতে পেরেছিল যে বাঘটির কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাকে বুদ্ধি ব্যবহার করতে হবে।

শেয়ালটি দ্রুত চিন্তা করে বলল, "তুমি আমাকে কেন ধরতে চাও? তুমি কি জানো না, আমি এই জঙ্গলের রাজা?"

বাঘটি অবাক হয়ে বলল, "তুমি রাজা? আমি তো এই জঙ্গলের একমাত্র রাজা!"


শেয়ালটি স্মার্টলি বলল, "আমি জানি তুমি শক্তিশালী, কিন্তু আমি এই জঙ্গলের প্রাণীদের রাজা। যদি তুমি আমার কথা বিশ্বাস না কর, তবে চল, আমি তোমাকে প্রমাণ করে দেব।"

বাঘটি কিছুটা সংশয়ে শেয়ালের কথা মেনে নিল এবং তারা একসাথে জঙ্গলের দিকে হাঁটা শুরু করল। পথে শেয়ালটি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু প্রাণীদের সামনে দিয়ে গেল। যেই তারা বাঘ এবং শেয়ালকে একসঙ্গে দেখতে পেল, প্রাণীরা ভয়ে পালিয়ে গেল। শেয়াল তখন বাঘের দিকে তাকিয়ে বলল, "দেখলে! সবাই আমাকে দেখে পালাচ্ছে, কারণ তারা জানে আমি তাদের রাজা।"



বাঘটি অবাক হয়ে শেয়ালের কথায় বিশ্বাস করে ফেলল এবং ভাবল, "এই শেয়াল সত্যিই জঙ্গলের রাজা হতে পারে।" বাঘটি শেয়ালের চালাকিতে ধরা পড়ে এবং তাকে আর ক্ষতি করতে সাহস করল না।

এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে শারীরিক শক্তি সবকিছু নয়, বরং বুদ্ধি এবং কৌশলই অনেক বড় ক্ষমতা। চালাক শেয়াল তার বুদ্ধি ব্যবহার করে হিংস্র বাঘের মতো শক্তিশালী প্রাণীকে হারিয়ে দেয়, যা আমাদের জীবনে বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব প্রমাণ করে।

"সমুদ্রের মাঝখানে এক জাহাজ প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পড়ে যাওয়ার ভয়ঙ্কর গল্প " (A terrifying story of a ship caught in a violent storm in the middle of the ocean)

  শিরোনাম: “ঝড়ের রাতে ফিরে দেখা” সমুদ্রটা ছিল শান্ত, সূর্য তখন পশ্চিমে হেলে পড়েছে। “এম.ভি. পূরবী” নামে একটি মালবাহী জাহাজ ভারত থেকে সিঙ্গ...