বিড়াল আর শালিকের মজার গল্প
এক চমৎকার সকালে, এক বিশাল বটগাছের ডালে বসে ছিল একটি শালিক পাখি। তার গায়ের সুন্দর পালকগুলো রোদের আলোতে ঝলমল করছিল। শালিকটি ছিল বেশ সুখী, সারাদিন সে গাছের ডালে ডালে উড়ে বেড়ায়, ফল-মূল খায়, আর বিভিন্ন গানের সুর তোলে। তার ডানা আর গলার মিষ্টি সুরে পুরো বনভূমি যেন সজীব হয়ে উঠত।
কিন্তু শালিকের আনন্দে ছায়া ফেলল বনের এক বিড়াল। এ বিড়ালটি ছিল বুদ্ধিমান এবং ধূর্ত, সবসময় পাখি ধরার ফন্দি আঁটত। সে ভাবল, “আজ যদি এই শালিকটাকে ধরতে পারি, তবে আমার জন্য ভালো মজার খাবার হবে!”
বিড়ালটি লুকিয়ে লুকিয়ে শালিকের গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। মাটির নিচে লতাগুল্মের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রেখে সে শালিকের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দুটো শিকার ধরার লোভে চকচক করছিল।
শালিকও বেশ চালাক ছিল। সে জানত যে বিড়ালটি ধূর্ত এবং সে বোধহয় তাকে ফাঁদে ফেলতে চাইছে। তাই সে দূর থেকে বিড়ালের দৃষ্টি বুঝতে পারল। তখন শালিকটি মিষ্টি গলায় গাইতে শুরু করল, যেন কিছুই বুঝতে পারেনি।
বিড়াল ভাবল, “শালিকটা নিশ্চয়ই কিছুই বুঝতে পারেনি। এখন সময় এসে গেছে তাকে ধরার!” সে আস্তে আস্তে গাছের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।
ঠিক তখনই শালিকটি ডানার ঝাপট দিয়ে উড়ে উঠল আর গাছের উপরের এক ডালে গিয়ে বসলো। বিড়াল হতবাক হয়ে গেল। সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগল, “এ তো সহজ শিকার নয়। আমাকে আরও বুদ্ধি খাটাতে হবে।”
বিড়ালটি তখন খুব মিষ্টি করে শালিককে বলল, “ওহে শালিক! তুমি যে এত সুন্দর গান গাও, তোমার সুরে আমি মুগ্ধ। তোমার গান শুনতে আমি আরও কাছে আসতে চেয়েছিলাম। তুমি কি একটু নিচে এসে আরেকটা গান শোনাবে?”
শালিকটি মজা পেয়ে বলল, “তুমি সত্যি আমার গান পছন্দ কর? আমি তো জানতাম না! আচ্ছা, আমি নিচে আসছি।”
শালিকটি একটু নিচে এসে আরেকটি ডালে বসলো এবং আবার গাইতে লাগল। বিড়ালটি ভাবল, “এবার তাকে ধরতে পারব!” সে আরও কাছে এল।
কিন্তু শালিকটি হঠাৎ করে চুপ করে গেল। সে বলল, “আচ্ছা বিড়াল ভাই, তুমি এতক্ষণ ধরে আমাকে গান শোনাতে বলছ, কিন্তু তুমি তো আমার জন্য কিছুই নিয়ে আসনি। আমার তো অনেক খিদে লেগেছে!”
বিড়ালটি একটু চিন্তায় পড়ল, তবে সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি হেসে বলল, “ওহ, ঠিক বলেছ। তুমি আমার মেহমান, আর আমি তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসব।” বিড়ালটি ভাবল, “আচ্ছা, একটু ধৈর্য ধরলে নিশ্চয়ই শালিকটাকে ফাঁদে ফেলতে পারব।”
বিড়ালটি দ্রুত পাশের বাগান থেকে একটি ছোট ফল নিয়ে এসে শালিকের দিকে ছুড়ে দিল। শালিকটি হেসে বলল, “এই তো বেশ! কিন্তু আমি আরও বড় কিছু চাই। এই ছোট্ট ফল আমার খিদে মেটাবে না।”
বিড়ালটি এবার একটু বিরক্ত হল। সে ভাবল, “কী ঝামেলায় পড়লাম! কিন্তু শালিকটা ধরা না দেওয়া পর্যন্ত আমাকে চালিয়ে যেতে হবে।” সে আবার পাশের বাগান থেকে একটা বড় ফল নিয়ে এসে দিল।
শালিকটি এবার আরও মজা পেল। সে বলল, “ওহ বিড়াল ভাই, তুমি তো খুবই উদার! কিন্তু তুমি কি আমাকে একটা গান শোনাতে পারবে? আমি তোমার মিষ্টি সুর শুনতে চাই।”
বিড়াল এবার সত্যিই হতাশ হয়ে গেল। সে গান গাইবে! এটা তো তার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে সে শালিককে বলল, “আচ্ছা শোন, আমি গানের সুর করতে পারি না, কিন্তু আমি যদি তোমার জন্য আরও কিছু খাবার নিয়ে আসি, তাহলে কি তুমি আরেকটা গান শোনাবে?”
শালিকটি তখন মজার হাসি দিয়ে বলল, “বাহ! তুমি তো খুব চতুর! কিন্তু বিড়াল ভাই, আমার মজার গান শুনতে হলে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। প্রথমে তুমি কিছু খাবার নিয়ে আসো, তারপর আমি তোমার জন্য গান গাইব।”
বিড়ালটি তখন দৌড়ে গিয়ে পাশের বাগান থেকে আরও ফল নিয়ে এল। কিন্তু শালিক ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছিল যে বিড়াল তাকে ফাঁদে ফেলতে চাইছে। তাই সে এবার নিজের পাখা মেলে দিল আর আকাশের দিকে উড়ে গেল। বিড়ালটি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
এইভাবে, বিড়ালের চালাকি শালিকের বুদ্ধির কাছে হার মানল। শালিক উড়ে গিয়ে বনের অন্য গাছের ওপর বসে মিষ্টি গলায় গান গাইতে লাগল আর বিড়ালটি হতাশ হয়ে ভাবতে লাগল, “কীভাবে আমি এই ছোট্ট পাখির কাছে পরাজিত হলাম!”
গল্পের শেষে আমরা শিখলাম, চতুরতা সবসময় কাজ দেয় না। কখনও কখনও বুদ্ধি আর ধৈর্য দিয়েই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

No comments:
Post a Comment